বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন

বাণিজ্যযুদ্ধের মাঝে বিশ্বকে আশ্বস্ত করল দুই বৈরী প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

বাণিজ্যযুদ্ধের মাঝে বিশ্বকে আশ্বস্ত করল দুই বৈরী প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দেশ দুটির শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলমান বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন। উভয় পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এ চুক্তি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য নতুন পথ খুলে দেবে। খবর এপি।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এ বিবাদকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকের পর গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আসে সমঝোতার ঘোষণা। আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং প্রযুক্তিপণ্য রফতানিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব। বিষয়গুলো গত মাসে জেনেভায় দেশ দুটির মধ্যে সম্পাদিত আরেক সাময়িক সমঝোতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ‘প্রথমে আমাদের সব নেতিবাচকতা দূর করতে হয়েছে। এখন আমরা সামনে এগোতে পারব।’

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ফোনালাপের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। চীনের উপবাণিজ্যমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি লি চেংগ্যাং জানিয়েছেন, ফোনালাপ ও জেনেভা আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে কিংবা পরবর্তী বৈঠক কবে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

লন্ডনের ঐতিহাসিক ল্যাংকাস্টার হাউজে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক মার্কিন ট্রেড নেগোশিয়েটর ও বর্তমানে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ‘জেনেভা চুক্তির ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ৩০ দিন এরই মধ্যে কেটে গেছে। এখন মাত্র ৬০ দিন বাকি, যার মধ্যে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা, ট্রান্সশিপমেন্ট, ফেন্টানিলসহ একাধিক ইস্যু সমাধান করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মূল্যবান সময় হারিয়েছে। এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

এদিকে আলোচনার পর হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ‘‌দুষ্প্রাপ্য খনিজ ইস্যু এ কাঠামোর একটি মৌলিক অংশ। চীন রফতানি লাইসেন্স দিতে গতি আনলে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের আরোপিত কিছু ব্যবস্থা তুলে নেবে।’

যদিও নির্দিষ্টভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।

চীন বিশ্বে সবচেয়ে বড় দুষ্প্রাপ্য খনিজ উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত হোক। অন্যদিকে চীন চায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রযুক্তি রফতানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিক।

ওয়েন্ডি কাটলার জানান, চীন ২০ বছর ধরে যে দাবি জানিয়ে আসছিল তা পূরণ হয়েছে। এ প্রথম যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের রফতানি নিয়ন্ত্রণনীতি আলোচনার টেবিলে তুলেছে। এতে ভবিষ্যতে বাণিজ্য আলোচনায় চীন এ ইস্যুকে বারবার তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে যাবে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত বিশ্বজুড়ে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক সংগ্রহ অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে। তবে এ নীতির বিরুদ্ধে একটি মামলার আপিল চলছে।

হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই চীন যেন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেয়। যদি সেটা না হয় তাহলে হয়তো আমরা কিছুই করব না। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য চীনের বাজারকে উন্মুক্ত করা।’

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা আসার পর দফায় দফায় শুল্ক বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ থেকে আমদানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ হলেও এর প্রধান লক্ষ্য হলো চীন। একসময় চীনা পণ্যে শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়। অন্যদিকে মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চড়ায় চীন। গত মাসের মাঝামাঝি এক সাময়িক চুক্তিতে দুই দেশ ৯০ দিনের জন্য শুল্ক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনে। একই সময়ে দুষ্প্রাপ্য খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে আবার আলোচনার টেবিলে যেতে হলো।

আরও